"শশিভূষণ দাশগুপ্ত"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

Barisalpedia থেকে
("বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও অধ্যাপক। জন্ম ১৭ মার্চ ১৯১১। মৃত..." দিয়ে পাতা তৈরি)
 
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও অধ্যাপক। জন্ম ১৭ মার্চ ১৯১১। মৃত্যু ২১ জুলাই ১৯৬৪। জন্মস্থান গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের চন্দ্রাহার গ্রাম। পিতা কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত। মাতা সারদাসুন্দরী।  
 
বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও অধ্যাপক। জন্ম ১৭ মার্চ ১৯১১। মৃত্যু ২১ জুলাই ১৯৬৪। জন্মস্থান গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের চন্দ্রাহার গ্রাম। পিতা কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত। মাতা সারদাসুন্দরী।  
  
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ. এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে বি.এ. পাশ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তান্ত্রিক বৌদ্ধবাদ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৩৭ খৃস্টাব্দে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি ও ১৯৩৯ খৃস্টাব্দে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, ১৯৩৮ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে বাংলা ভাষার ‘রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক’ নিযুক্ত হন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের লেখক ছিলেন। গবেষণাসংক্রান্ত রচনা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও শিশু সাহিত্যের গ্রন্থকার হিসাবে বাংলা সাহিত্যে তিনি স্মরণীয়। তিনি নেপালে গিয়ে বৌদ্ধ গায়কদের কণ্ঠে গীত ‘চাচাগীত’গুলি টেপ রেকর্ড করে এনে ‘চর্যাপদাবলী’র পর তার উত্তরধারা সম্পর্কে গবেষণা করে গেছেন। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অগাধ পান্ডিত্যের পরিচয় ‘শ্রয়ী’ ও ‘উপমা কালিদাসস্য’। রচিত উলে¬খযোগ্য গ্রন্থ: ‘বাংলা সাহিত্যের নবযুগ’, ‘বাংলা সাহিত্যের একদিক’; কবিতা- ‘এপারে ওপারে’, ‘সীতা’; কথিকা- ‘নিশা ঠাকুরের কড়চা’, ‘ক্ষণদর্শন’; কিশোরদের জন্যÑ ‘ছুটির দিনে মেঘের গল্প’, ‘শ্যামলা দীঘির ঈশাণ কোণে’, ‘ছোটদের বাল্মীকির রামায়ণ’, ‘ছোটদের ব্যাসদেবের মহাভারত’; নাটক- ‘রাজকন্যার ঝাঁপি’, ‘দিনান্তের আগুন’; উপন্যাস- ‘বিদ্রোহিনী’, ‘জঙ্গল মাঠের ফসল’; ধর্মসংক্রান্ত- ‘Obscure Religious Cults as Background of Bengali Literature’, ‘An Indroduction to Tantric Buddhism’ প্রভৃতি। ‘ভারতের শক্তিসাধনা ও শাক্তসাহিত্য’ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৬১ খৃস্টাব্দে ‘সাহিত্য একাদেমি’ পুরস্কার লাভ করেন। ‘শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ: দর্শনে ও সাহিত্যে’ তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। শিশু সাহিত্য সংসদের পরিচালকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।  
+
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ. এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে বি.এ. পাশ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তান্ত্রিক বৌদ্ধবাদ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৩৭ খৃস্টাব্দে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি ও ১৯৩৯ খৃস্টাব্দে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, ১৯৩৮ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে বাংলা ভাষার ‘রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক’ নিযুক্ত হন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের লেখক ছিলেন। গবেষণাসংক্রান্ত রচনা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও শিশু সাহিত্যের গ্রন্থকার হিসাবে বাংলা সাহিত্যে তিনি স্মরণীয়। তিনি নেপালে গিয়ে বৌদ্ধ গায়কদের কণ্ঠে গীত ‘চাচাগীত’গুলি টেপ রেকর্ড করে এনে ‘চর্যাপদাবলী’র পর তার উত্তরধারা সম্পর্কে গবেষণা করে গেছেন। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অগাধ পান্ডিত্যের পরিচয় ‘শ্রয়ী’ ও ‘উপমা কালিদাসস্য’। রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘বাংলা সাহিত্যের নবযুগ’, ‘বাংলা সাহিত্যের একদিক’; কবিতা- ‘এপারে ওপারে’, ‘সীতা’; কথিকা- ‘নিশা ঠাকুরের কড়চা’, ‘ক্ষণদর্শন’; কিশোরদের জন্য- ‘ছুটির দিনে মেঘের গল্প’, ‘শ্যামলা দীঘির ঈশাণ কোণে’, ‘ছোটদের বাল্মীকির রামায়ণ’, ‘ছোটদের ব্যাসদেবের মহাভারত’; নাটক- ‘রাজকন্যার ঝাঁপি’, ‘দিনান্তের আগুন’; উপন্যাস- ‘বিদ্রোহিনী’, ‘জঙ্গল মাঠের ফসল’; ধর্মসংক্রান্ত- ‘Obscure Religious Cults as Background of Bengali Literature’, ‘An Introduction to Tantric Buddhism’ প্রভৃতি। ‘ভারতের শক্তিসাধনা ও শাক্তসাহিত্য’ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৬১ খৃস্টাব্দে ‘সাহিত্য একাদেমি’ পুরস্কার লাভ করেন। ‘শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ: দর্শনে ও সাহিত্যে’ তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। শিশু সাহিত্য সংসদের পরিচালকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।  
  
 
----
 
----
 
তথ্যসূত্র: বাঙালি চরিতাভিধান (প্রথম খন্ড)। কোলকাতা: সাহিত্য সংসদ। ২০১৩।
 
তথ্যসূত্র: বাঙালি চরিতাভিধান (প্রথম খন্ড)। কোলকাতা: সাহিত্য সংসদ। ২০১৩।

২১:৪০, ১৫ জুলাই ২০১৬ তারিখে সম্পাদিত বর্তমান সংস্করণ

বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও অধ্যাপক। জন্ম ১৭ মার্চ ১৯১১। মৃত্যু ২১ জুলাই ১৯৬৪। জন্মস্থান গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের চন্দ্রাহার গ্রাম। পিতা কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত। মাতা সারদাসুন্দরী।

বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ. এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে বি.এ. পাশ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তান্ত্রিক বৌদ্ধবাদ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৩৭ খৃস্টাব্দে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি ও ১৯৩৯ খৃস্টাব্দে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৫ খৃস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, ১৯৩৮ খৃস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে বাংলা ভাষার ‘রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক’ নিযুক্ত হন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের লেখক ছিলেন। গবেষণাসংক্রান্ত রচনা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও শিশু সাহিত্যের গ্রন্থকার হিসাবে বাংলা সাহিত্যে তিনি স্মরণীয়। তিনি নেপালে গিয়ে বৌদ্ধ গায়কদের কণ্ঠে গীত ‘চাচাগীত’গুলি টেপ রেকর্ড করে এনে ‘চর্যাপদাবলী’র পর তার উত্তরধারা সম্পর্কে গবেষণা করে গেছেন। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অগাধ পান্ডিত্যের পরিচয় ‘শ্রয়ী’ ও ‘উপমা কালিদাসস্য’। রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘বাংলা সাহিত্যের নবযুগ’, ‘বাংলা সাহিত্যের একদিক’; কবিতা- ‘এপারে ওপারে’, ‘সীতা’; কথিকা- ‘নিশা ঠাকুরের কড়চা’, ‘ক্ষণদর্শন’; কিশোরদের জন্য- ‘ছুটির দিনে মেঘের গল্প’, ‘শ্যামলা দীঘির ঈশাণ কোণে’, ‘ছোটদের বাল্মীকির রামায়ণ’, ‘ছোটদের ব্যাসদেবের মহাভারত’; নাটক- ‘রাজকন্যার ঝাঁপি’, ‘দিনান্তের আগুন’; উপন্যাস- ‘বিদ্রোহিনী’, ‘জঙ্গল মাঠের ফসল’; ধর্মসংক্রান্ত- ‘Obscure Religious Cults as Background of Bengali Literature’, ‘An Introduction to Tantric Buddhism’ প্রভৃতি। ‘ভারতের শক্তিসাধনা ও শাক্তসাহিত্য’ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৬১ খৃস্টাব্দে ‘সাহিত্য একাদেমি’ পুরস্কার লাভ করেন। ‘শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ: দর্শনে ও সাহিত্যে’ তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। শিশু সাহিত্য সংসদের পরিচালকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।


তথ্যসূত্র: বাঙালি চরিতাভিধান (প্রথম খন্ড)। কোলকাতা: সাহিত্য সংসদ। ২০১৩।