বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

Barisalpedia থেকে

বরিশালে নারী শিক্ষায় যে স্কুলটির ভূমিকা সেটির নাম বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। এটি জনমুখে বরিশাল সদর গার্লস স্কুল নামে অধিক পরিচিত।

বরিশাল সদর গার্লস স্কুল.jpg

ইতিহাস

১৮৬০ সালে বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের উদ্যোগে বরিশালে নারী শিক্ষার জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয় শুরু হয়। কিন্তু নারী শিক্ষা গ্রহণে জনগণের মধ্যে সাড়া না থাকায় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। খ্রিষ্টান মিশনারীদের উদ্যোগে ১৮৭৩ সালে বগুড়া রোডে মেয়েদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু হয়। জীবনানন্দ দাশের ঠাকুরদা সর্বানন্দ দাশগুপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। বিশ শতকের প্রথম দিকে শরৎচন্দ্র গুহ, অশ্বিনীকুমার দত্তের ভ্রাতুষ্পুত্র সরল কুমার দত্ত, সর্বানন্দ দাস, খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দীন, মফিজ উদ্দীন প্রমুখের চেষ্টায় ১৯২৩ সালে বরিশাল সদর গার্লস উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সদর গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠায় কাঁচাবালিয়ায় গুহ পরিবার ও রহমতপুরের জমিদার পরিবার বেশ অবদান রেখেছে। কাঁচাবালিয়ার গুহ পরিবারের উকিল শরৎচন্দ্র গুহ সদর গার্লস স্কুল যেখানে অবস্থিত সে জমির মালিক ছিলেন। তিনি দলিলের মাধ্যমে জমিটি স্কুলের নামে দানপত্র করেন। দলিলের স্বাক্ষী ছিলেন মোফাজ্জেল হক ও আবদুর রব। ১৯২৩ সালে সদর গার্লস স্কুল পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে উন্নীত হয়। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন মিস ডরোথী মুজেজ। তিনি ১৯২৩ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। জীবনানন্দ দাশের পিসি স্নেহলতা দাশ গুপ্ত ১৯৪৫-৪৮ সালে প্রধান শিক্ষয়ত্রী ছিলেন।

সরকারি পর্ব

১৯৬১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সদর গার্লস স্কুল সরকারি হয় এবং নাকরণ করা হয় বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। শান্তিসুধা গুহ বড়দি নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর চেষ্টায় সদর গার্লস স্কুল বাংলাদেশে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। পাকিস্তান সরকার তাকে ‘পাকিস্তান তমঘা’ পদকে ভূষিত করে। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল আজম খান স্কুল পরিদর্শন করে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বরিশাল সদর গার্লস স্কুলে স্বাধীন বাংলার সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ স্কুলকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর বরিশাল জেলা এক সময় মুক্ত ছিল।

প্রধান শিক্ষকগণের তালিকা

১. মিস ডরোথী জুজেজ (১৯২৩-১৯৩৫); ২. মুক্তা প্রভা (১৯৩৬-১৯৩৭); ৩. মিস মার্থা (১৯৩৮-১৯৪১); ৪. মিস ফ্রান্সিস (১৯৪২-১৯৪৪); ৫. মিস স্নেহলতা দাশগুপ্ত (১৯৪৫-১৯৪৮); ৬. মিস শান্তি গুহ (১৯৪৮-৬০);

সরকারিকরণের পর

৭. মিস শান্তি গুহ (১৩.০২.১৯৬১-০২.০২.১৯৬৮); ৮. মিসেস খোদেজা বেগম (১৪.০১.১৯৬৯-২৮.০৪.১৯৮১); ৯. রাবেয়া খাতুন (০৪.০৪.১৯৮১-০১.০৪.১৯৯৫); ১০. উম্মে বিলকিস (০১.০৪.১৯৯৫-৩১-১২-২০০১); ১১. আইনুন নাহার বেগম (২২.০৩.২০০১-০৪.০৭.২০০৪); ১২. জাফর আলী হাওলাদার (০৪.০৭.২০০৪-২১.১২.২০০৪); ১৩. অজিতা রানী সমাদ্দার (২১.১২.২০০৪-৩০.১২.২০০৮); ১৪. মিসেস মাহবুব হোসেন (৩০.১২.২০০৮-১৫.১১.২০০৯ ভারপ্রাপ্ত); ১৫. শংকর কুমার পাল।



তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (দ্বিতীয় খ-)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১৫।