"বরিশালের রাজনৈতিক সংগঠনের সূচনা"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

Barisalpedia থেকে
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
কলকাতার পরেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বরিশালের স্থান ছিল। ১৮৮৪ খৃৃস্টাব্দে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বেই বরিশালে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। রাজনৈতিক দাবি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উকিলরাই করতেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উকিলদের প্রাধান্য থাকায় বরিশালকে উকিল রাজ বলা হতো। বরিশালের উকিল ও জমিদাররা একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খৃৃস্টাব্দে বরিশাল পিপলস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। জনসাধারণ সভা বরিশালের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। জনগণের পক্ষে এ সংগঠন দাবি-দাওয়া পেশ করত। জমিদারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জমিদাররা ল্যান্ড হোল্ডারস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করে। তৎকালীন বরিশালের নেতৃবৃন্দের মধ্যে স্বরূপ চন্দ্র গুহ ও প্যারীলাল রায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৮৮০ খৃৃস্টাব্দে অশ্বিনী কুমার দত্তের আগমনের পর বরিশালের সমাজ জীবনে প্রথম রাজনৈতিক চেতনার সৃষ্টি হয়। অশ্বিনী কুমারের পূর্বে একমাত্র পিএল রায় সবচেয়ে রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিক্রমপুরের অধিবাসী। ১৮৬৭ খৃৃস্টাব্দে তিনি বরিশালে ওকালতি শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলেন। অশ্বিনী কুমারকে পেয়ে তিনি তার উৎসাহে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অশ্বিনী কুমারের প্রেরণায় বরিশাল জনসাধারণ সভা শক্তিশালী হয়। প্যারীলাল রায়কে সভাপতি ও রাখাল চন্দ্র রায় চৌধুরীকে সম্পাদক করে বরিশাল জনসাধারণ সভা গঠন করা হয়। হরনাথ ঘোষ, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, উগ্রকণ্ঠ রায়, মৌলভী মুহাম্মদ ওয়াজেদ, কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভয়ানন্দ দাশ, ডাঃ তারিণী কুমার গুপ্ত, হরকান্ত সেন, বিহারী লাল রায়, অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রমুখ বরিশাল জনসাধারণ সভার সভ্য ছিলেন। এ সভার পক্ষ হতে অশ্বিনী কুমার গ্রামে গ্রামে বক্তৃতা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করেন। ১৮৮৬ খৃৃস্টাব্দে হতে জনসাধারণ সভা কংগ্রেসের সাথে জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল জনসাধারণ সভা হতে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আগরপুর মিয়া বাড়ীর উকিল সৈজদ্দিন মিয়া মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন। প্রতিছর এ সভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কংগ্রেসের সম্মেলনে যোগ দিত।  
+
কলকাতার পরেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বরিশালের স্থান ছিল। ১৮৮৪ খৃৃস্টাব্দে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বেই বরিশালে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। রাজনৈতিক দাবি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উকিলরাই করতেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উকিলদের প্রাধান্য থাকায় বরিশালকে উকিল রাজ বলা হতো। বরিশালের উকিল ও জমিদাররা একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খৃৃস্টাব্দে বরিশাল পিপলস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। জনসাধারণ সভা বরিশালের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। জনগণের পক্ষে এ সংগঠন দাবি-দাওয়া পেশ করত। জমিদারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জমিদাররা ল্যান্ড হোল্ডারস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করে। তৎকালীন বরিশালের নেতৃবৃন্দের মধ্যে স্বরূপ চন্দ্র গুহ ও প্যারীলাল রায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৮৮০ খৃৃস্টাব্দে অশ্বিনী কুমার দত্তের রাজনীতিতে আগমনের পর বরিশালের রাজনৈতিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হয়। অশ্বিনী কুমারের পূর্বে একমাত্র পিএল রায় সবচেয়ে রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিক্রমপুরের অধিবাসী। ১৮৬৭ খৃৃস্টাব্দে তিনি বরিশালে ওকালতি শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলেন। প্যারীলাল রায়কে সভাপতি ও রাখাল চন্দ্র রায় চৌধুরীকে সম্পাদক করে বরিশাল জনসাধারণ সভা গঠন করা হয়। হরনাথ ঘোষ, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, উগ্রকণ্ঠ রায়, মৌলভী মুহাম্মদ ওয়াজেদ, কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভয়ানন্দ দাশ, ডাঃ তারিণী কুমার গুপ্ত, হরকান্ত সেন, বিহারী লাল রায়, অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রমুখ বরিশাল জনসাধারণ সভার সভ্য ছিলেন। এ সভার পক্ষ হতে অশ্বিনী কুমার গ্রামে গ্রামে বক্তৃতা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করেন। ১৮৮৬ খৃৃস্টাব্দে হতে জনসাধারণ সভা কংগ্রেসের সাথে জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল জনসাধারণ সভা হতে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আগরপুর মিয়া বাড়ীর উকিল সৈজদ্দিন মিয়া মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন। প্রতিছর এ সভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কংগ্রেসের সম্মেলনে যোগ দিত।  
  
 
----
 
----
 
তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (১ম খণ্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১০।
 
তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (১ম খণ্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১০।

১০:৫০, ৪ মে ২০২০ তারিখে সম্পাদিত বর্তমান সংস্করণ

কলকাতার পরেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বরিশালের স্থান ছিল। ১৮৮৪ খৃৃস্টাব্দে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বেই বরিশালে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। রাজনৈতিক দাবি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উকিলরাই করতেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উকিলদের প্রাধান্য থাকায় বরিশালকে উকিল রাজ বলা হতো। বরিশালের উকিল ও জমিদাররা একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খৃৃস্টাব্দে বরিশাল পিপলস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। জনসাধারণ সভা বরিশালের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। জনগণের পক্ষে এ সংগঠন দাবি-দাওয়া পেশ করত। জমিদারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জমিদাররা ল্যান্ড হোল্ডারস এ্যাসোসিয়েশন গঠন করে। তৎকালীন বরিশালের নেতৃবৃন্দের মধ্যে স্বরূপ চন্দ্র গুহ ও প্যারীলাল রায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৮৮০ খৃৃস্টাব্দে অশ্বিনী কুমার দত্তের রাজনীতিতে আগমনের পর বরিশালের রাজনৈতিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হয়। অশ্বিনী কুমারের পূর্বে একমাত্র পিএল রায় সবচেয়ে রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিক্রমপুরের অধিবাসী। ১৮৬৭ খৃৃস্টাব্দে তিনি বরিশালে ওকালতি শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলেন। প্যারীলাল রায়কে সভাপতি ও রাখাল চন্দ্র রায় চৌধুরীকে সম্পাদক করে বরিশাল জনসাধারণ সভা গঠন করা হয়। হরনাথ ঘোষ, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, উগ্রকণ্ঠ রায়, মৌলভী মুহাম্মদ ওয়াজেদ, কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভয়ানন্দ দাশ, ডাঃ তারিণী কুমার গুপ্ত, হরকান্ত সেন, বিহারী লাল রায়, অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রমুখ বরিশাল জনসাধারণ সভার সভ্য ছিলেন। এ সভার পক্ষ হতে অশ্বিনী কুমার গ্রামে গ্রামে বক্তৃতা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করেন। ১৮৮৬ খৃৃস্টাব্দে হতে জনসাধারণ সভা কংগ্রেসের সাথে জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল জনসাধারণ সভা হতে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আগরপুর মিয়া বাড়ীর উকিল সৈজদ্দিন মিয়া মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন। প্রতিছর এ সভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কংগ্রেসের সম্মেলনে যোগ দিত।


তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (১ম খণ্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১০।