কমলা রানীর দীঘি, বাউফল

Barisalpedia থেকে

রাজা দনুজমর্দন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার পরে বাউফলের কচুয়াতে তার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে। চন্দ্রদ্বীপ রাজ পরিবারের পঞ্চম পুরুষ পুত্রহীন রাজা জয়দেবের জ্যেষ্ঠাকন্যা রানী কমলা প্রজাদের পানীয় পানির জন্য একটি দীঘি খনন করে। এর নাম হয় কমলা রাণীর দীঘি। কমলা রানীর দীঘিটিকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত। বৃহত্তর বরিশালের লোকসঙ্গীত এবং লোককাহিনীতেও কমলা রানী আর তার দীঘি নিয়ে বিভিন্ন রচনা পরিলক্ষিত। এসব কাহিণীতে বলা হয়েছে যে, দীঘি খনন করার রানী কমলা একদিনে পদব্রজে যতটুকু জায়গা ঘুরে আসতে পারেন ততোটা জায়গা জুড়ে দীঘি খনন করার কথা ভাবা হয়। নির্ধারিত দিনে পূজা শেষে রানী কমলা অক্লান্তভাবে হেটে চলায় রাজা বলভদ্র ও তার পারিষদেরা দীঘির আয়তন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। রানী পথচলা রোধ করার জন্য তার পায়ে কবুতরের রক্ত ছিটিয়ে দিলে রানী প্রাসাদে ফিরে আসেন। দীর্ঘ সেই পথ চলা শেষে দেখা যায যে, রানী মোট একশত একর জায়গা পরিভ্রমণ করেছেন। এলাকার হাজার হাজার লোকের অংশগ্রহণে পরবর্তীতে দীঘি খননের কাজ সম্পন্ন হলেও তাতে কোনো পানি না ওঠায় রাজ পরিবারের সকলেই ব্যাকুল হয়ে পড়ে। একদিন রাতে রানী কমলা স্বপ্নে দীঘির মধ্যস্থানে গঙ্গা দেবীকে পূজা দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয় এবং সেই অনুসারে পরদিন তিনি তার সখীবৃন্দ সমভিব্যাহারে দীঘিতে নেমে পূজার আয়োজন করে। পূজা শেষে হঠাৎ করে সদ্য খনন করা দীঘির চারদিক থেকে পানি উঠতে শুরু করে। তার সঙ্গী সাথীরা তীরে উঠতে পারলেও রানী দীঘি থেকে উঠতে সক্ষম হননি। আস্তে আস্তে তার দেহ দীঘির গভীরে ডুবে যেতে থাকে। শেষ মুহূর্তে রানী তার শিশুপুত্রকে স্তন্য পান করানোর জন্য রোজ ভোরে দীঘির ঘাটে রেখে যাওয়ার জন্য রাজাকে অনুরোধ করে যান। রানীর কথামতো তারপর থেকে রোজ ভোরে শিশু পরমানন্দকে ঘাটে রেখে আসা হতো। রানীর প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগের কারণে একদিন রাজা রানীর কাছে এসে তাকে স্পর্শ করতেই সে ঝাঁপ দিয়ে দীঘির অতলে তলিয়ে যায় এবং সেইসাথে দীঘির এক পার্শ্ব ভেঙে নদীর সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে রানী কমলার দীঘিতে অজস্র পদ্মফুল ফুটতে থাকে। স্থানীয়দের বিশ্বাস এভাবেই রানী তার খনন করা দীঘির মাঝে পদ্মফুল হয়ে চিরদিনের জন্য বেঁচে আছে।


তথ্যসূত্র: সাইফুল আহসান বুলবুল। বৃহত্তর বরিশালের ঐতিহাসিক নিদর্শন। গতিধারা, ঢাকা। ২০১২।